এক বছরে ১৫ কোটি গ্রাহকে উন্নীত হতে চায় নগদ
বিগত ৫ বছরে ৩ লাখ রিটেইলসহ সাড়ে ৯ কোটি গ্রাহক সৃষ্টি করেছে ডাক বিভাগের এমএফস প্রতিষ্ঠান নগদ। আগামী এক বছরে এই সংখ্যা ১৫ কোটির মাইল ফলকে নিয়ে যেতে চান প্রতিষ্ঠানটিতে সদ্য নিযুক্ত প্রশাসক বদিউজ্জামান দিদার। এ জন্য গণমাধ্যমসহ দেশের প্রত্যেক নাগরিককে হিসাব খোলার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বনানীর ডেলটা ডালিয়া টাওয়ারে নগদ এর প্রধান কার্যালয়ে প্রথম অফিস করে সাংবাদিক সম্মেলনে এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম শাখার পরিচালক। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, নগদ এর আপন গতিতেই চলবে। মানবসম্পদেও কোনো হাত দেয়া হবে না। শুধু আগের সিইও পরিচালনা বোর্ডও থাকছে না। অপারেশন ঠিক আগের মতোই চলবে। নগদ ছিলো, নগদ চলবে। অনেকগুলো সরকারি ভাতা এটার মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। সেগুলোও চলবে। নগদের উপর আস্থা যাতে নষ্ট না হয় সেটি লক্ষ্য থাকবে। বরং ব্যবসা আরও বাড়ানো হবে৷
‘তাই বলে বাংলাদেশ ব্যাংক কিন্তু এটি দিয়ে ব্যবসা করতে আসেনি। একে এগিয়ে নিতেই প্রশাসক নিয়োগ করেছে’-যোগ করেন তিনি।
ডিজিবাংলা প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে দিদার বলেন, ডাক বিভাগের লগো ফিরে আসবে কিনা এমন এটি এখনই বলা যাবে না তবে আমি মনে করি এটা ফিরিয়ে আনা উচিত।
সরকার পরিবর্তনে নগদে ঝাপটা লাগলো কেন এমন প্রশ্নের জাবাবে তিনি বলেন, ৫ বছরে এই অবস্থান। কারও না কারও রোষানলে পড়তে হয়েছে। ব্যবসায়ে প্রতিযোগির হিংসা থাকবেই। অপপ্রয়াস ছিল। তবে মানুষের আস্থা হারানোর মতো কিছু ঘটেনি নগদে। একটা রিউমার এটা। সেজন্য সরকার পরিবর্তন আনছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রশাসক জানান, নগদের নিয়মিত কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই। এমনকি মানবসম্পদ বা অন্যান্য সম্পদ যেভাবে ছিল, তাতেও হাত দিয়ে কোনো অস্থিতিশীলতা তৈরী করার চেষ্টা করা হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ডাক বিভাগের পরিচালক (পরিকল্পনা) মো. আবু তালেব জানান, ডাক বিভাগের ব্যবসা হিসে নগদ-কে তিনি জানেন। তবে এটি পরিচালনা কিংবা এর পেছনের বিষয়ে তিনি জানেন না। তিনি বলেন, অপারেশন সাইট আমরা দেখতাম না। মাসিক ও বার্ষিক হিসাবের যেটুকু বাংলাদেশ ব্যাংকে উপস্থাপিত হতো, তা জানতাম। আসলে ডাক বিভাগের সক্ষমতা না থাকায় নগদ লিমিটেডকে সৃষ্টি করা হয়। গত পাঁচ বছরে ডাক বিভাগের ডিজিটাল লেনদেন হিসেবে নগদের যে কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে তাতে কোনো অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়নি। এটি ডাক বিভাগের অন্যান্য সেবার মতোই একটি বিশেষায়িত ডিজিটাল আর্থিক সেবা।
সংবাদ সম্মেলনে নগদ লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মো. সাফায়েত আলম বলেন,‘বাংলাদেশ ব্যাংকের এই প্রশাসক নিয়োগকে আমরা স্বাগত জানাই। রিউমার দূর করতে প্রশাসক নিয়োগ একটা ভালো উদ্যোগ। আশা করি, এটা ভালো হবে। কেননা নগদের বিপক্ষে যে অপপ্রচার চলছিল, সেটা ঠেকাতে সরকারের এটি একটি সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ যা গ্রাহকের আস্থা পুরনুদ্ধারে সরাসরি ভূমিকা রাখবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসকের সহায়ক কর্মকর্তা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান, যুগ্ম পরিচালক আনোয়ার উল্যাহ্, পলাশ মন্ডল ও যুগ্ম পরিচালক (আইসিটি) আবু ছাদাত মোহাম্মদ ইয়াছিন এবং উপ-পরিচালক (আইসিটি) চয়ন বিশ্বাস ও মো. আইয়ুব খান, ডাক বিভাগের প্রতিনিধি এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত) মোহাম্মদ আমিনুল হক উপস্থিত ছিলেন।







